আসাম বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা হলেন কংগ্রেসের ওয়াজিদ চৌধুরী

মে ২৭, ২০২৬ Imran Hossain
27002
Share: Facebook X WhatsApp

বাংলাদেশের সীমান্ত-লাগোয়া ভারতীয় রাজ্য আসামের বিধানসভায় বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ওয়াজিদ আলী চৌধুরীকে মনোনীত করেছে কংগ্রেস, আর উপ-বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে জয়প্রকাশ দাস-কে।

গতকাল মঙ্গলবার ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় কমিটি এআইসিসিসি’র (অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি-এআইসিসি) মহাসচিব কে সি বেনুগোপাল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দফা বৈঠক করার পর ওয়াজেদ আলী চৌধুরীকে বিরোধী দলীয় নেতা এবং জয়প্রকাশ দাস-কে উপ-বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত করেছে কংগ্রেস।

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে আসামের বীরসিং-জরুয়া আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন রাজ্য কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ওয়াজিদ আলী চৌধুরী। এর আগে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০২১ সাল অর্থাৎ গত বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত টানা ৩টি বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ সালমারা আসন থেকে জয়ী হয়েছেন ওয়াজিদ।
আর উপ-বিরোধী দলীয় নেতা জয়প্রকাশ দাস সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে নাউবৈচা আসনে জয়ী হয়েছেন।

আসামের বিধানসভায় আসনসংখ্যা ১২৬টি। কোনো দল বা জোট যদি ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে সরকার গঠন করতে চায়, তাহলে সেই দল বা জোট কে অবশ্যই কমপক্ষে ৬৪টি আসনে জয়ী হতে হবে।

গত ৯ এপ্রিল আসামে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে, ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে ৪ মে। বিজেপি এবং তার নেতৃত্বাধীন জোট এ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ফলাফল থেকে জানা গেছে, আসামের মোট ১০২টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি এবং তার নেতৃত্বাধীন জোট। তার মদ্যে ৮২টি আসনে জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা এবং ২০টি আসনে জয়ী হয়েছে জোট-শরিক দল আসাম গণ পরিষদ এবং বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট।

আর বিরোধীদল কংগ্রেস জয় পেয়েছে মাত্র ১৯টি আসনে। কংগ্রেসের এই ১৯ জন বিধায়কের মধ্যে জয়প্রকাশ দাস ব্যতীত ১৮ জনই মুসলিম। এ কারণে বিজেপি বিধায়কদের অনেকই আড়ালে-আবডালে কংগ্রেসকে ‘নয়া মুসলিম লীগ’ নামেও ডাকা শুরু করেছেন।

প্রায় ৪০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত আসাম এক সময়ে কংগ্রেসের ঘাঁটি রাজ্য ছিলো। আসামের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও এক সময়ে আসামের ‘হেভিওয়েট’ কংগ্রেস নেতা ছিলেন। কংগ্রেসের শাসনামলে একাধিক মেয়াদে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদেও ছিলেন তিনি।

আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে কংগ্রেস এবং রাজ্যসরকারের সব পদ থেকে অব্যাহতি নেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা, তার পরের বছর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।

তারপর ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকারগঠন করে বিজেপি, সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মূলত তার পর থেকেই আসামে কোণঠাসা অবস্থায় আছে কংগ্রেস।

সূত্র : এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *